০৫:৩৩ অপরাহ্ন, আগস্ট ২৭, ২০১৬ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, আগস্ট ২৭, ২০১৬

এমন মানুষের খুব বেশি প্রয়োজন

Share this with

Copy this link
বিপাশা হায়াত

আমার বাবার (আবুল হায়াত) সূত্র ধরে ছোটবেলা থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে যোগসূত্র। একটু একটু করে এই আবহেই বেড়ে উঠেছি। একটাই পরিবার ছিল আমাদের। আমি, ইরেশ, শর্মিষ্ঠা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। জন্মের পর থেকে নূর আঙ্কেলকে দেখছি। তাই কবে প্রথম দেখেছি, কবে পরিচয়, একসঙ্গে প্রথম কোন নাটক করেছি তার কিছুই মনে নেই। তবে অনেক আদর, ¯েœহ পেয়েছি। নাগরিক আমার কাছে বিশাল আকাশের সমান। সেই আকাশের সীমানায় হেঁটে যাওয়া অনেক দূর... একসঙ্গে প্রথম কাজ করা ‘দেওয়ান গাজীর কেস্্সা’ নাটকে। ‘খাট্টা তামাশা’, ‘মুখোশ’ নাটকের সেট ডিজাইন করেছি। তাদের সঙ্গে কাজ করার প্রতিটি মুহূর্ত অনেক ভালো লাগার। কতকিছু শেখা যায়, শিখেছি এসব মানুষের কাছে। জীবনের অনেক কিছু তাদের কাছ থেকে পাওয়া। আমার ভেতরের সুন্দরের বোধ এই নাগরিক থেকেই পাওয়া। টেলিভিশনে প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করি। আবদুল্লাহ আল-মামুনের পরিচালনায় ‘অরণ্যে একদা’ নাটকে। অনেক কিছু শিখেছি নূর আঙ্কেলের কাছে।
অভিনেতা হিসেবে তিনি অসাধারণ। সংলাপ প্রক্ষেপণে অনেক মনোযোগী। আবৃত্তি করেন বলে প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ স্পষ্ট। এমন সাবলীল অভিনয়, উচ্চারণ খুব কম অভিনেতার মধ্যে রয়েছে। একেবারে ন্যাচারাল অভিনয় করেন। একটু একটু করে চরিত্রের ভেতরে প্রবেশ করে সেই চরিত্রটা হয়ে ওঠেন। মঞ্চে ‘নূরলদিনের সারাজীবন’ নাটকে নূর আঙ্কেলের অভিনয় চোখে লেগে আছে। মনের মধ্যে গেঁথে রয়েছে প্রতিটি সংলাপ। একজন উঁচুমানের অভিনেতা ছাড়া এমন অভিনয় করা সম্ভব নয়। টেলিভিশনে ‘বাকের ভাই’, ‘মির্জা’ চরিত্রগুলো আমার অসম্ভবরকম পছন্দ। একটা মানুষের কী পরিমাণ ডেডিকেশন থাকলে এত ভালো অভিনয় করা সম্ভব সেটা ভাবি। ‘আগুনের পরশমণি’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছি। একটা কথাই বলব, এমন শক্তিমান ন্যাচারাল অভিনেতা খুব কম রয়েছে। চর্চিত একজন শৈল্পিক মানুষ নূর আঙ্কেল।
রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার কারণে নাটকে তেমন সময় দিতে পারছেন না। কিন্তু তার অনেক কিছু দেয়ার আছে অভিনয়ে। একজন অভিনেতা হিসেবে তার কাছ থেকে হাতে-কলমে শেখার আছে অনেক কিছু। আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি তো বলবেন না, আসো আমার কাছে শেখো। আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে তাকে এই বিষয়ে উৎসাহিত করা। না হলে অনেক কিছু অজানা থেকে যাবে। সত্যিকারের শিল্পমনস্ক একজন মানুষ। একটা লেভেলে থাকার চেষ্টা করেছেন। শিল্প-সংস্কৃতি নিয়েই কাটিয়ে দিচ্ছেন সারাক্ষণ। মানুষের জন্য অফুরন্ত দরদ। এমন মানুষের খুব বেশি প্রয়োজন আমাদের।

পাঠকের মন্তব্য

Top