০৫:৪৬ অপরাহ্ন, আগস্ট ২৭, ২০১৬ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, আগস্ট ২৭, ২০১৬

অসাধারণের কারণে অতি সাধারণ

Share this with

Copy this link
মোর্শেদ আলম - এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, গ্রুপ এম

সব জায়গায় নূর ভাই অসাধারণ একজন মানুষ। দেখার বিষয় তিনি অসাধারণের কারণে অতি সাধারণ। এত বড় সেলিব্রিটি হয়েও চালচলন, কথাবার্তা এত সাধারণ সেটা দিয়ে প্রমাণ করে তিনি কত সাধারণ। আমি তাকে দেখছি ১৯৯৭ সাল থেকে। প্রায় বিশ বছর হয়ে গেল। তাকে আমার অদ্ভুত রকম মানুষ মনে হতো। এক্সসেপশনাল একজন মানুষ। তাকে উদাহরণ হিসেবে রাখা যায়।
তিনি সবকিছু সাধারণভাবে হ্যান্ডেল করেন। আমরা কখনো তাকে রাগতে দেখিনি। এটা একটা অসাধারণ গুণ। অফিসে একটা মানুষ অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন খুব ঠা-া মাথায় সবকিছু সামলেছেন। অদ্ভুতভাবে কাজ করেছি, কখনো বসের বকা খাইনি। তাতে বেশ করে ওনারশিপ চলে আসত। বকা না দেয়ার ফলে কাজে আরো বেশি করে মনোযোগী হয়ে যেতাম। এটা একটা বড় গুণ। সবকিছু ঠা-া মাথায় সামলাতেন।
আমরা অবাক হতাম একটা মানুষ কী করে এত ঠা-া থাকতে পারে। উনি কখন ঘুমাতেন সেটা ভেবে অবাক হয়ে যেতাম। এতকিছু কীভাবে মেইনটেইন করতেন ভেবে আশ্চর্য হতাম। আমরা যখন প্রথম দেখি তখন অভিনয় আর সাংস্কৃতিক কর্মকা- নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলেন। ব্যবসা করতেন আর সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গে ভীষণ ব্যস্ত ছিলেন। ভাবতাম কীভাবে নাটক, অফিস, রাজনীতি সবকিছু ম্যানেজ করছেন। পরে যখন রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে গেলেন তখন আরো অবাক হয়ে গেলাম। ভাবতাম তিনি সময় পাচ্ছেন কীভাবে। তার সময় ম্যানেজমেন্ট দেখে খুব অবাক হতাম। অনেক বেশি ব্যালান্স লাইফ পালন করতেন। একটা সাধারণ মানুষের জন্য এটা পালন করা খুব কঠিন হয়ে যেত।
খুব কম ঘুমাতেন তিনি। আমরা মিটিং করছি, খুব খাওয়া-দাওয়া হচ্ছে কিন্তু দেখতাম তিনি কিছু খাচ্ছেন না। নূর ভাইয়ের জন্য বাসা থেকে খাবার আসছে। সেটাই তিনি খেতেন। এটা প্রথম থেকে দেখে আসছি। নূর ভাইয়ের মতো এত লোভহীন মানুুষ খুব কম দেখছি। আমার হলে মনে হতো একটু খেয়ে ফেলি। তাকে কখনো দেখিনি আচ্ছা একদিন একটু কাচ্চি-বিরিয়ানি খেয়ে ফেলি।
আমরা যখন তার সঙ্গে বাইরে যেতাম দেখতাম প্রত্যেকের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছেন। ধরেন আমরা অফিসের কাজে চট্টগ্রাম যাচ্ছি, সেখানে গিয়ে অফিসের লিফটম্যান থেকে শুরু করে সিকিউরিটি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছেন। বৌ-বাচ্চা কেমন আছেন তার খোঁজ নিচ্ছেন। সবাই চাইতেন পরিচিত মুখ একটু কথা বলতে। তিনি সবার সঙ্গে কথা বলতেন, যত ব্যস্ততা থাক। আমার মনে হয় খুব কম মানুষের মধ্যে এই গুণটা আছে। তখন কিন্তু তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তখন থেকে তিনি এটা করতেন।
আমরা প্রথম প্রথম বলতাম নূর ভাই কেন রাজনীতিতে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে আমরা বুঝেছি আমাদের ভুল ছিল। তার মতো মানুষের আসলে প্রয়োজন। আমরা এখন অনেক মিস করি কিন্তু তিনি আরো বড় কাজে ব্যস্ত। দেশের মানুষের কাজে ব্যস্ত। অনেক আগে থেকে দেখছি তার বাসার কাছে লাইন ধরে গ্রামের মানুষ। তিনি তাদের কথা শুনছেন, সাহায্য করছেন। এটা অনেক আগে থেকে মানুষ সেবা করে আসছেন। তাদের বিদায় করে আমাদের সময় দিচ্ছেন। প্রথম প্রথম রাগ হতো পরে সেটা বুঝতে পারলাম। এখনো ভাবি তিনি কীভাবে ব্যালান্স করেন।
একটা উদাহরণ দেই আমাদের একটা ব্যবসার কাজে নূর ভাইয়ের প্রয়োজন কিন্তু তিনি তখন নীলফামারীতে। সকাল ১০টার মধ্যে নূর ভাইকে আমার লাগবে। আগের দিন বিকেলে যখন তাকে জানালাম তখন নূর ভাই সারারাত গাড়ি নিয়ে জার্নি করে অফিসে এলেন। এসে বাসায় গিয়ে যে ফ্রেশ হবেন সে সময়টা ছিল না। সরাসরি এসে হাত-মুখ ধুয়ে আমাদের সঙ্গে মিটিং করলেন। আমাদের নিজেদের খুব খারাপ লাগছিল। এটা আরেকটা বড় গুণ তার। তার কাছে শেখার মতো বিষয়।
আমরা অনেক ভাগ্যবান যে আমাদের ব্যবসার অংশীদার করে নিয়েছেন। নূর ভাই, আলী যাকের ভাই কত বড় খোলামনের মানুষ তার একটা প্রমাণ। একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে অনেক কিছু অর্জন করতে পারেন কিন্তু এমন করতে খুব কম মানুষ পারেন। আমার এখানে কাজ করতে করতে অংশীদার হয়ে উঠেছি এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমরা অনেক ভাগ্যবান। এটা খুব রেয়ার। এর ফলে অনেক ডেডিকেশন বেড়ে যায়। জীবনের অনেক কিছু জেনেছি, শিখেছি নূর ভাই ও আলী যাকের ভাইয়ের কাছ থেকে। আমার কাছে একটা বিস্ময় নূর ভাই।

 

পাঠকের মন্তব্য

Top