ঢাকার জঙ্গি আস্তানা অভিযানে নিহত কে এই শেহজাদ? | The Daily Star
০২:৩৪ অপরাহ্ন, আগস্ট ২২, ২০১৬ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০২:৩৭ অপরাহ্ন, আগস্ট ২২, ২০১৬

ঢাকার জঙ্গি আস্তানা অভিযানে নিহত কে এই শেহজাদ?

Share this with

Copy this link
স্টার অনলাইন রিপোর্ট

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেহজাদ। ছবিটি কবে তোলা হয়েছে জানা যায়নি। সূত্রঃ ফেসবুক।

রাজধানীর কল্যাণপুরে অপারেশন ‘স্টর্ম ২৬’ চলাকালীন সময়ে নিহত জঙ্গি শেহজাদ রৌফ তার বন্ধু গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি নিবরাস ইসলামের মতই আমোদপ্রিয় ছিল। সে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করত এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলোতে গান গাইত - এমনটিই জানানো হয়েছে টেলিগ্রাফ অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে।

আমেরিকান নাগরিক শেহজাদ শিকাগো থেকে তার পরিবারের সাথে কয়েক বছর আগে ঢাকায় ফিরে আসে এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশুনা করে। এরপর, সে ও নিবরাস নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত।

 

তারা দুজনই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিখোঁজ।

টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অজ্ঞাতনামা এক পারিবারিক সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয় - শেহজাদের পরিবারের সদস্যরা আমেরিকান নাগরিক এবং তার বাবা একজন কোটিপতি। তিনি বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেন। তার দাদা প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রাক্তন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন।

তার এক আত্নীয় টেলিগ্রাফকে বলেন – “শেহজাদ ছিল আমোদপ্রিয় এবং আর সবার মতোই একজন। সে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে ভালবাসত... আমি এখনও মনে আছে, এ বছরের জানুয়ারিতে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে সে অঞ্জন দত্তের ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো’ গানটি গেয়েছিল।”

“শেহজাদের পরিবার শিকাগোতে বসবাস করত... কিন্তু তার মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ার পর তারা দেশে ফিরে আসে। এরপর সে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশুনা করে এবং ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালরিয়েট সম্পন্ন করে। সে বিবিএ শেষ করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ পড়ছিল” – টেলিগ্রাফ অফ ইন্ডিয়া তাকে উদ্ধৃত করে বলে।

তিনি বলেন, “তার পরিবার অনেকটাই উদারপন্থী... তারা প্রায়ই বাড়িতে পার্টির আয়োজন করত যেখানে অতিথিরা আসতেন এবং গান বাজনা করতেন।”

“২০০৯ সালে শেহজাদের মা মারা যান। তারপর থেকে সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত... কিন্তু আমরা কখনোই ভাবতে পারিনি সে একজন সন্ত্রাসী হয়ে উঠবে,” তিনি বলেন।

“সে যা করেছে তাতে আমাদের সমর্থন নেই। এবং দ্ব্যার্থহীন ভাবে সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানাই। যারা শেহজাদের মতো তরুণদের মগজধোলাই করেছে এবং তাদের এই পথে ঠেলে দিয়েছে, কর্তৃপক্ষের উচিৎ তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা,” তিনি বলেন।

পহেলা জুলাই গুলশানে জঙ্গি হামলার পর কর্তৃপক্ষ যখন নিখোঁজ যুবকদের তালিকা প্রকাশ করে সেখানে শেহজাদের নাম ছিল। “পুলিশের প্রকাশিত ছবি দেখে আমরা তাকে সনাক্ত করতে পারি,” তিনি বলেন।

মঙ্গলবার কল্যাণপুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে যে নয়জন জঙ্গি নিহত হয় শেহজাদ তাদের মধ্যে একজন।

পাঠকের মন্তব্য

Top