অপরূপা ঈদ | The Daily Star
০৫:৪১ অপরাহ্ন, আগস্ট ০১, ২০১৬ / সর্বশেষ সংশোধিত: ০৫:০৮ অপরাহ্ন, আগস্ট ০৮, ২০১৬

অপরূপা ঈদ

Share this with

Copy this link
সাজসজ্জায়

ঈদ উৎসব মানেই সাজসজ্জা। নতুন কাপড়ের চকচকে ভাব তো রয়েইছেÑ সেই সঙ্গে মেকআপের দিকেও সবার অতিরিক্ত মনোযোগ থাকে। এবার ঈদ বর্ষায়। তবে বৃষ্টির সঙ্গে থাকবে ভ্যাপসা গরম আর আর্দ্রতা। ফলে মেকআপ করা বেশ মুশকিল। বাইরে বেরোলে বা কাজের মধ্যে থাকলে ঘামের কারণে মেকআপ নষ্ট হওয়ার অবকাশ থাকে না। এজন্য কিছু নিয়ম মেনে নিলে মেকআপ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।


তবে এ সময়ের মেকআপ হবে অন্য সময়ের চেয়ে একটু অন্যরকম। দিন আর রাতের মেকআপ হবে আলাদা। দিনের সাজসজ্জা হবে ন্যাচারাল, লাইট ও সফট। আর রাতের মেকআপ হবে একটু গর্জিয়াস। মেকআপ করার সময় সবসময় নিজের ন্যাচারাল লুকটা বজায় রাখার চেষ্টা করবেন। খেয়াল রাখবেন মেকআপ যেন খুব চড়া না হয়। তাহলে আর্টিফিশিয়াল দেখতে লাগবে। মেকআপ শুরু করার আগে ত্বকের যতœ নিন। কারণ ত্বক সুন্দর না হলে মেকআপ ভালো হবে না। আর যতেœর জন্য ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিংÑ এই বেসিক স্কিনকেয়ার রুটিন কিন্তু সারাবছরই আপনাকে মেনে চলতে হবে।


মেকআপের জন্য কসমেটিক্স বেছে নিতে হবে সতর্কভাবে। ক্রিম বা অয়েল বেজড কসমেটিক্সের থেকে ওয়াটার বেসড বা পাউডার মেকআপ গরমের সময় উপযুক্ত। সে রকমই লিপস্টিকের রং বেছে নেয়ার সময়ও একটু খেয়াল রাখা দরকার। লাল-মেরুনের মতো গাঢ় রং না নিয়ে মভ গোলাপির মতো হালকা ন্যাচারাল রং বেছে নিতে পারেন।



সকালে খুব বেশি ভারি মেকআপ কিন্তু একদমই ভালো লাগবে না। তবে মেকআপ করা বারণ নয়। সকালের মেকআপ হবে ন্যাচারাল। দিনে রোদে যখন বেরোতে হয় বা বাসায় মেহমানদারিতেও কাজের সময় ঘাম ঝরে। তখন দেখা যায় সাজ তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। আর একটু এদিক-সেদিক হলেই তা চোখে পড়ে বেশ। তাই প্রয়োজন একটু বেশি যতেœর। মেকআপ শুরুর আগে ক্লিনজিং জেল বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। তারপর তুলোয় অ্যাসট্রিনজেন্ট লোশন নিয়ে মুখ ও গলা ভালো করে মুছে নিন। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব চলে যাবে। দিনে ফাউন্ডেশন লাগানোর দরকার নেই।


 

এর পরিবর্তে মুখে ও গলায় ভালো করে উচ্চ এসপিযুক্ত সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নিন। বাড়িতে থাকলে হালকা ফেস পাউডার ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিনের ওপরেও ফেস ফাউডার বা বেবি পাউডার ভালোভাবে লাগাতে হবে। অতিরিক্ত পাউডার ব্রাশ দিয়ে ঝেড়ে ফেলুন। দিনের বেলায় ব্লাশন ব্যবহার না করলেও চলে।


তবে চাইলে খুব হালকা পরিমাণে ব্যবহার করুন। আর অবশ্যই ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে ব্লেন্ড করবেন। চোখের মেকআপ খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চোখের মেকআপের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে আপনাকে কতটা সুন্দর দেখাবে। দিনে পেন্সিল কাজল দিয়ে নিচের আইলিডে একটু মোটা করে আউটলাইন করে নিন, দেখতে ভালো লাগবে। খুব সরু করে ওপরের পাতায় আইলাইনার লাগান। তবে লিকুইড আইলাইনারের পরিবর্তে আই পেন্সিল ব্যবহার করুন। সবশেষে মাসকারা লাগান। আইশেড দিতে চাইলে আইলাইনার দেয়ার আগেই বেইজ কালার শেড ব্যবহার করতে পারেন হালকাভাবে। চোখ উজ্জ্বল হবে আবার মেকআপ চড়া হবে না। ঠোঁটের মেকআপ হবে হালকা কিন্তু আকর্ষণীয়। লিপস্টিকের চেয়ে লিপগ্লসই যথেষ্ট। আর লিপস্টিক লাগালে পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে মভ, সফট ব্রাউন বা পিংকের মতো হালকা প্যাস্টেল শেডের রং বেছে নিন। পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে চুল বাঁধুন। স্যান্ডেল আর ব্যাগ ম্যাচ করুন।



রাতে উৎসবের মেকআপ হতে হয় একটু গর্জিয়াস। মুখ পরিষ্কার করার পর ভালো করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। তবে আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত প্রকৃতির হয়, তবে ময়েশ্চারাইজার লাগাবেন না। ময়েশ্চারাইজারের পরিবর্তে তুলোয় অ্যাস্ট্রিনজেন্ট লোশন নিয়ে মুখ মুছে নিন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মুখে, কপালে, নাকে ও থুঁতনিতে ফাউন্ডেশন ফোঁটা ফোঁটা করে লাগিয়ে নিন। ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ফাউন্ডেশন ভালো করে ব্লেন্ড করুন। ব্লেন্ড করার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না। একটু সময় নিয়ে যতœ করে ব্লেন্ড করুন। গরমে ক্রিম ফাউন্ডেশন একেবারেই ব্যবহার না করাই ভালো। ওয়াটার বেসড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পানি মিশিয়ে নিতে পারেন। নিজের স্কিন টোনের সঙ্গে ম্যাচ করে ফাউন্ডেশন লাগাবেন। এতে ন্যাচারাল লুক বজায় থাকবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মুখে, গলায়, ঘাড়ে কমপ্যাক্ট লাগিয়ে নিন। রাতে লাইট শেড আইশ্যাডোর সঙ্গে হাইলাইট করতে পারেন। এরপর ওপরের আইলিডে একটু মোটা করে লিকুইড আইলাইনার লাগিয়ে নিন। তবে যাদের বেশি ঘামের সমস্যা আছে, তারা পেন্সিল আইলাইনারও ব্যবহার করতে পারেন। এবার সামান্য কাজল পরে নিলেই পেয়ে যাবেন কমপ্লিট লুক। চাইলে মোটা করে কাজল পরতে পারেন। চোখে মাশকারা লাগান। চোখের পাতা ঘন ও মোটা দেখাবে। এবার ঠোঁটে মেকআপ, প্রথমে লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট আউটলাইন করে নিন। তবে আউটলাইনে যে রং ব্যবহার করছেন তার থেকে এক শেড হালকা লিপস্টিক লাগিয়ে নিন। সবশেষে ঠোঁটের ঠিক মাঝখানে সামান্য গ্লস লাগিয়ে নিন। শাইনিং এফেক্ট পাবেন। হালকা গ্লোর জন্য ব্লাশ অন দিয়ে চিকবোন, থুঁতনি বা নোজ হাইলাইট করতে পারেন। ব্লাশ অনের ক্ষেত্রে পাউডার ব্লাশ অন ব্যবহার করুন। পাউডার ব্লাশ অন সহজে লাগাতেও পারবেন। তারপর ব্রাশ দিয়ে আউটওয়ার্ড ও আপওয়ার্ড স্ট্রোকে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। প্রয়োজনে আঙুলের ডগা দিয়ে হালকা করে ঘষুন। এতে মেকআপ ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাবে। সুগন্ধি আপনার সৌখিনতা। পারফিউম লাগিয়ে তৈরি হন। পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে জুতো ও ব্যাগ নিন। চুলের স্টাইল গরম হওয়ায় বেঁধে নেয়াই ভালো, তবে খোলা চুলে স্বচ্ছন্দ্য থাকলে অসুবিধা নেই। চুলগুলোকে ঠিকমতো গুছিয়ে নিলে মেকআপ আরো ফুটে উঠবে।

টিপস
* গরমে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ ভালো রাখার জন্য মেকআপ শুরুর আগে পরিষ্কার কাপড়ে আইস কিউব জড়িয়ে ভালো করে মুখ মুছে নিন। রোমকূপের মুখ বন্ধ করতে সাহায্য করবে। ঘাম কম হবে। মেকআপ বসবে ভালো।
* মেকআপ করার পর বারবার মুখে হাত দেবেন না। মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে। ব্যাগে টিস্যু রাখুন । ঘাম হলে হালকা করে টিস্যু দিয়ে মুছে নিন।
 মেকআপ করুন তবে নিজের ন্যাচারাল লুকটাকে প্রাধান্য দিয়ে। সতেজ থাকুন, ঈদ উৎসবে মাতিয়ে রাখুন নিজেকে।

রাহনুমা শর্মী

পাঠকের মন্তব্য

Top